বিদ্যালয়টি অগ্রযাত্রার ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ গোড়াপত্তন ভারতীয় উপমহাদেশের অধিভূক্ত ব্রিটিশ শাসনাধীন চলাকালীন বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ৭নং ঘোগা ইউনিয়নবাসীর শিক্ষার প্রসার ছিল না বলেই চলে, নাম না জানা মুষ্ঠিমেয় সচেতন মুরব্বিগণ তা অনুধাবন করেন এবং শিক্ষা বিস্তারেরর লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ০১/০১/১৯৪২ইং সালে গাবতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চারচালা কাঠ খুঁটি বিশিষ্ট ৩০ হাত ঘর নির্মাণ করেন। অত্র প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান পূর্বক বাবু অভয় চন্দ্র দে ৩০ জন ছাত্র নিয়ে প্রথম বিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেন।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল্লাহ্ স্যার এর অক্লান্ত পরিশ্রম, সাধনা ও অধ্যাবসায়ের ফলে বিদ্যালয়টি ০১/০১/১৯৪৮ইং সালে প্রথম সরকারী স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়। এরপর ১৯৪৯ ইং সালে জনাব মোঃ কেরামত আলী স্যার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে বিদ্যালয়টি একটি আধুনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
মাঝখানে অনেক বাঁধা-বিপত্তি, চড়াই-উৎড়াই পাড় হয়ে ০৭/০১/১৯৬০ ই সালে জনাব মোঃ বছির উদ্দীন আহমেদ প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। তারই প্রচেষ্টায় ১৯৬৯ ইং সালে সরকারী অনুদানে দ্বিতল ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। জনাব বছির উদ্দিন স্যার ১৯৬৩ ইং সালে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আধাপাকা একটি আবাসিক বাসভবন নির্মাণ করেন। সেই সময়কে বলা হয় বিদ্যালয়ের স্বর্ণযুগ।
সরকারী সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ০১/০৯/১৯৮৪ ইং সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এম.পি.ও ভূক্তি হয়। জনাব মোঃ বছির উদ্দীন আহমেদ সাহেবের চাকুরীর বিদায়ের শেষ প্রান্তে ১৯৯৪ ইং সালে ফ্যাসিলিটিস বিভাগ নতুন আরেকটি দ্বিতল ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৩ কক্ষ ভবন নির্মাণ করেন। জনাব মোঃ বছির উদ্দীন স্যার ৩১/১২/১৯৯৪ ইং তারিখ তাঁর চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সুনামের সহিত বিদায় গ্রহণ করেন।
০১/০১/১৯৯৫ ইং সনে সরকারী নিয়োগ বিধি মোতাবেক জনাব মোঃ আঃ কদ্দুস খান সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সুদক্ষ ও সুনামের সাথে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন এবং পরিশেষে ৩০/১০/১৯৯৯ ইং তারিখ অবসর গ্রহণ করেন।
০১/১১/১৯৯৯ ইং সনে সরকারী নিয়োগ বিধি মোতাবেক জনাব মোঃ আবুল কামাল আজাদ সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। তিনি তাঁর বিপ্লবী কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি ২০০১ ইং সনে প্রথম বিদ্যালয়ের রাজকীয় গেট সহ বাউন্ডারী নির্মাণ করেন। তারপর ২০০৪-২০০৫ ইং সনে সরকারী অনুদানে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন নির্মাণ সমাপ্ত করেন। তিনি ২০০৬ ইং সালে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ড থেকে ৩০ হাত বিশিষ্ট আধাপাকা নামাজ ঘর নির্মাণ করেন। জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ সাহেব ২০০৮ ইং সালে বিদ্যালয়ের আয় বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ড থেকে টাঙ্গাইল টু ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয় সংলগ্ন ৭ কক্ষ বিশিষ্ট একটি স্কুল মার্কেট নির্মাণ করেন। ২০০৮-০৯ ইং সালে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি লেট্রিন ও ১০০০ লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা ট্যাংকসহ পাম্প স্থাপন করেন। ২০১০ ইং সালে সরকারী ডিজিটালায়নের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের অর্থায়নে ২টি কম্পিউটার ও কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় করেন। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান এবং খেলাধুলায় পারদর্শিতায় বিদ্যালয়টি অত্র উপজেলায় একাধারে কয়েকবার প্রথম ও চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১১ ইং সালে তাঁর চাকুরীর একেবারে শেষ প্রান্তে এসে বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় তলায় ১ কক্ষ বিশিষ্ট কম্পিউটার ল্যাব নির্মাণ করেন। ২০১১ ইং সালেই বিদ্যালয়ের অর্থায়নে ৬০x৩০ হাত বিশিষ্ট ১০০০ জন লোক ধারণ ক্ষতা সম্পন্ন একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম ভবন নির্মাণ করেন। তিনি অত্র এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও স্বনামধন্য মৃত আলহাজ আব্দুল রাজ্জাক চেয়ারম্যান (৩ বার), অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক মোঃ হাফিজ স্যার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আঃ আজিজ মন্ডল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, স্বনামধন্য বিদ্যোৎসাহী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মতিউর রহমান সাহেবের সভাপতিত্বে পরিচালনায় তিনি এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করেন। অবশেষে ২০১২ ইং সালের ২৯/০৬/২০১২ ইং তারিখ অডিটোরিয়াম ভবনটি উদ্বোধনের আগেই তাঁর বিপ্লবী কর্মযজ্ঞ সমাপ্ত করেন এবং সুনামের সহিত বিদ্যালয় হতে অবসর গ্রহণ করেন।
২০১২ইং সালের ৩০/০৬/২০১২ ইং তারিখ জনাব মোঃ সাই্ফুল ইসলাম সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। এরপর জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সরকারী বিধি মোতাবেক ০৫/০১/২০১৩ ইং প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি সরকারী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাঁর কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। তিনি আলহাজ মতিউর রহমান সাহেবের (তৃতীয় বার) সভাপতিত্বে পরিচালনায় ২০১৩ ইং সালে ১লা জানুয়ারীতে অডিটোরিয়াম ভবন উদ্বোধন ও পুরাতন ভবন সংস্কার করেন। ২০১৩ ইং সালে একইসাথে জে.এস.সি এস.এস.সি পরীক্ষার সেন্টার আনেন। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় শিক্ষায় ২০১৩ ইং এবং ২০১৪ ইং সালে উপজেলা ভিত্তিক প্রথম স্থান অধিকার লাভ করে। ২০১৫ইং সালে ''শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব '' স্থাপন করেন। তিনি ২০১৯/২০২০ ইং সালে বিদ্যালয়ের অর্থায়নে বিদ্যালয়ের নিকটে ০১ কাঠা জমি ক্রয় করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ৪ তলা ভবন নির্মান করেন । তিনি সরকারের ‘‘ বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ’’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে অগ্রসরমান ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
গাবতলী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে গৌরবের সাথে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিদ্যালয়টি ৫২৮ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। যার ২৮০ শতক দখল স্বত্ব এবং ২৪৮ শতক লিজ কৃত । বিদ্যালয়ে একটি চারতলা ভবন , ২টি দ্বিতল ভবন, একটি ১ তলা ভবন , ১টি নামায ঘর , ১ টি আধাপাকা অডিটোরিয়াম ভবন রয়েছে। সর্বমোট ২৮ কক্ষের ভবন সমূহে ২০ টি শ্রেনীকক্ষ, ১টি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কক্ষ, ১টি শিক্ষক মিলনায়তন, ১ টি অফিস কক্ষ, ১ গ্রন্থাগার, ১টি বিজ্ঞানাগার ১ আইসিটিডি কম্পিউটার ল্যাব মাল্টিমিডিয়া কক্ষ এবং ১টিি কমন রোম আছে । বিদ্যালয়টিতে ১টি খেলার মাঠ, ১টি নলকূপ , ৩টি গভীর নলকূপ , ২টি ওয়াটার পয়েন্ট সহ পর্যাপ্ত ওয়াসরুমসূহের সাপ্লাই পানির ব্যবস্থা রয়েছে। ময়মনসিংহ টু টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন ১টি বিদ্যালয় মার্কেট রয়ছে। বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা করার জন্য একটি সুন্দর খেলার মাঠ রয়েছে। অত্র এলাকার জনসাধারণ যখন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল সে মুহুর্তে জ্ঞানের আলো জনসাধারনের মাঝে বিস্তরণের জন্য এলাকার কতিপয় শিক্ষানুরাগী এবং জনহিতৈশী ব্যক্তিবর্গের শতস্ফুর্ত সহযোগীতায় বিদ্যালয়টি ক্রমে ক্রমে উন্নীত হচ্ছে । বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নতুন কারীকুলামে শিক্ষা দেওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি বছর J.S.C ও S.S.C পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল লাভ করে বৃত্তি পাইয়া থাকে।বর্তমান প্রধান শিক্ষক সাহেবের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে আশানুরুপ ফল করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি মুক্তাগাছা উপজেলার মধ্যে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত।
ক্রমিক নং শিক্ষক মন্ডলীর নাম শিক্ষাগত যোগ্যতা হইতে পর্যন্ত মন্তব্য
০১ বাবু অভয় চন্দ্র দে ১৯৪২ ১৯৪৩ ভারপ্রাপ্ত
০২ বাবু যাদবয চন্দ্র দেবনাথ এম. এ (ডবল) ১৯৪৪ ১৯৪৫
এল .এল .বি.
০৩. জনাব মোহাম্মাদ আলী বি. এ. বি .টি ১৯৪৫ ১৯৪৬
০৪. মোহাম্মাদ মোছলেহ উদ্দিন বি. এ. ১৯৪৭
০৫. জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ বি. এ. ১৯৪৮
০৬. জনাব কেরামত আলী (তালুকদার) বি. এ. ১৯৪৯ ০৬-০১-১৯৬০
০৭. মোঃ বছির উদ্দিন আহমদ বি. এ. বি .টি ০৭-০১-৬০ ০৯-১২-১৯৮১
0৮. মোহাম্মাদ ফজলুল হক বি, এ, বি এড ১০-১২-১৯৮১ ০৩-০২-১৯৮৪
০৯. মোঃ বছির উদ্দিন আহমদ বি. এ. বি .টি ০৪-০২-১৯৮৪ ৩১-১২-১৯৯৪ ভারপ্রাপ্ত
১০. মোঃ আঃ কুদ্দুছ খাঁন বিএসসি বিএড ০১-০১-১৯৯৫ ৩১-১০-১৯৯৯
১১. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বি.এ.বিএড ০১-১১-১৯৯৯ ২৯-০৬-২০১২
১২. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিএসসি বিএড ৩০-০৬-২০১২ ৩০-১২-২০১২ ভারপ্রাপ্ত
১২. মোঃ বজলুর রশীদ বি.এ.বিএড ৩১-১২-২০১২ ০৪-০১-২০১৩ ভারপ্রাপ্ত
১৩. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিএসসি বিএড ০৫-০১-২০১৩
ক্রমিক নং শিক্ষকগণের নাম পদবী
০১ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক
০২ মোহাম্মদ সেকান্দার আলী সহকারী প্রধান শিক্ষক
০৩ রাফিজা সুলতানা সহকারী শিক্ষক
০৪ আরিফা সুলতানা সহকারী শিক্ষক
০৫ মোঃ আনোয়ার হোসেন সহকারী শিক্ষক
০৬ মোহাম্মদ আবুল হোসেন সহকারী শিক্ষক
০৭ শ্রীদাম চন্দ্র নন্দী সহকারী শিক্ষক
০৮ মিনতি রানী বিশ্বাস সহকারী শিক্ষক
০৯ আতাউর রহমান সহকারী শিক্ষক
১০ শুপড়া রানী দেব সহকারী শিক্ষক
১১ মোঃ আবিদুর রহমান আখন্দ সহকারী শিক্ষক
১২ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সহকারী শিক্ষক
১৩ শায়লা ওসমান রুপা সহকারী শিক্ষক
১৪ মনোয়ারা পারভীন সহকারী শিক্ষক
১৫ মোঃ জহিরুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক